মিত্তাল পরিবারের প্রমোদ ঋণখেলাপি

মানবজমিন ডেস্ক

বিশ্বজমিন ২৯ জুন ২০২০, সোমবার | সর্বশেষ আপডেট: ১০:২৩

ভারতের অন্যতম ধনী মিত্তাল পরিবারের এক সদস্যকে ঋণখেলাপি ঘোষণা করা হয়েছে। বলা হয়েছে, তিনি ১৩ কোটি পাউন্ডের দেনা। মিত্তাল পরিবারের এই সদস্যের নাম প্রমোদ মিত্তাল (৬৪)। তিনি বৃটেনের শীর্ষ ধনীদের অন্যতম। ২০১৩ সালে মেয়ের বিয়েতে খরচ করেছিলেন ৫ লাখ পাউন্ড। সংগঠিত এক অপরাধের সঙ্গে তার জড়িত থাকার অভিযোগে তিনি তার অর্থ হারিয়ে দেউলিয়া হয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে। লন্ডনের দ্য টাইমস পত্রিকাকে উদ্ধৃত করে এ খবর দিয়েছে অনলাইন ডেইলি মেইল।
ভারতের বহুল আলোচিত লক্ষ্মী মিত্তাল।
তিনি বৃটেনের শীর্ষ ধনীর তালিকায় ১৯তম। লন্ডনের মেফেয়ারে ৩০ কোটি পাউন্ড মূল্যের একটি ম্যানসনের মালিক তিনি। এ ছাড়া আর্চিলর মিত্তাল নামে বিশ্বের সবচেয়ে বৃহৎ স্টিল উৎপাদনকারী কোম্পানিরও প্রধান। ৬৭৮ কোটি পাউন্ডের মালিক লক্ষ্মী মিত্তাল। ৭০ বছর বয়সী লক্ষ্মী মিত্তালের সঙ্গে পিতার রেখে যাওয়া অ্যালয় সা¤্রাজ্য নিয়ে আগে থেকেই দ্বন্দ্ব রয়েছে প্রমোদ মিত্তালের। তাই ছোটভাই প্রমোদের জামিন নেয়ার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন নি বড়ভাই লক্ষ্মী মিত্তাল।
দ্য টাইমসকে একটি সূত্র বলেছেন, এই দু’ভাইয়ের মধ্যে এখন আর কোনো ঘনিষ্ঠতা নেই। তারা আলাদাভাবে বসবাস করেন। কেন ভাইয়ের এই আর্থিক দায় নিজে মাথায় নেবেন- এমন কোনো কারণ খুঁজে পান না লক্ষ্মী মিত্তাল। ফলে ছোটভাইয়ের এই দেনার খবরে তার কিছু এসে যায় না।
২০১৩ সাল। এ সময় বার্সেলোনার ন্যাশনাল মিউজিয়াম অব ক্যাটালান আর্টে মেয়ে ‘সৃষ্টি’র জমকালো অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বিয়ের আয়োজন করেন প্রমোদ মিত্তাল। সেই থেকে তিনি ব্যাপক প্রচারণা পেয়েছেন। ওই বিয়ের অনুষ্ঠানে পার্টি দেয়া হয় তিন দিন। তাতে উপস্থিত হয়েছিলেন ৫০০ অতিথি। তাদেরকে ১৩২ পাউন্ড ওজনের বিশাল বিয়ের কেক পরিবেশন করা হয়।
অন্যদিকে তার সঙ্গে বিরোধ থাকা বড়ভাই লক্ষ্মী মিত্তাল ২০০৪ সালে তার মেয়ে বানিশা’র বিয়ের আয়োজন করেন প্যালেস অব ভার্সেইলিতে। সেখানে খরচ করা হয় ৪ কোটি পাউন্ড। তাতে পারফর্ম করেন বিশ্বের নামীদামী তারকারা। তার মধ্যে ছিলেন কাইলি মিনোগ। আইফেল টাওয়ারে আয়োজন করা হয়েছিল আতশবাজির।
দ্য টাইমসের মতে, স্টিল উৎপাদনের জন্য ব্যবহৃত কোক-এর উৎপাদনকারী বসনিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান হলো গ্লোবাল ইস্পাত কোকসনা ইন্ড্রাস্টিজা লুকাভাক (গিকি)। এই কোম্পানির হয়ে ২০০৬ সালে বড় একটি অংকের ঋণের গ্যারান্টার হয়েছিলেন প্রমোদ মিত্তাল। সেই ঘটনায় তিনি ঋণ খেলাপি হয়েছেন। ২০১৩ সালে ওই ঋণ নিয়েছিল কোম্পানিটি। কিন্তু ঋণ শোধ না করায় প্রমোদ মিত্তালের পিছু লাগে লন্ডনভিত্তিক স্টিমকোর। স্টিমকোর হলো বৃটেনের স্টিল বাণিজ্য ও বিতরণকারী কোম্পানি। স্টিমকোর তার অ-বাণিজ্যিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে একটি কোম্পানি মুরগেট ইন্ডাস্ট্রিজ হিসেবে আলাদা করার চেষ্টা করে। মুরগেট ইন্ড্রাস্ট্রিজকে ইনসলভেন্সি অ্যান্ড কোম্পানিজ কোর্ট দেউলিয়া হিসেবে ঘোষণা করে। গিকি’তে পরিকল্পিত অপরাধের তদন্তে গত বছর জুলাই মাসে প্রমোদ মিত্তালকে গ্রেপ্তার করা হয় বসনিয়ায়। পরে তাকে ১০ লাখ ইউরোর বিনিময়ে জামিন দেয়া হয়। তবে তদন্ত চলতেই থাকে।
মুরগেট কোম্পানির আইনজীবী মাইকেল স্বনগার্ড এবং ডানকান লকহার্ট বলেছেন, মুরগেটের জন্য প্রমোদ মিত্তালের দেউলিয়াত্ব একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ। তিনি এবং তার সঙ্গে সম্পর্কিত বেশ কিছু কোম্পানি যে পরিমাণ অর্থের ঋণ আছে তা উদ্ধারে দীর্ঘ ও যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। তবে প্রমোদ মিত্তালের আইনজীবী রিচার্ড ভাইগাস বলেছেন, এটা একটা জটিল বিষয়। যার প্রেক্ষিতে দেউলিয়াত্বের অর্ডার দেয়া হয়েছে। তারা এর বিরুদ্ধে আপিল করবেন।

আপনার মতামত দিন

বিশ্বজমিন অন্যান্য খবর

কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি

পাপুল কুয়েতের নাগরিক নন

৯ জুলাই ২০২০



বিশ্বজমিন সর্বাধিক পঠিত



২৩৯ বিজ্ঞানীর দাবি

করোনাভাইরাস বায়ুবাহিত